বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
বাংলাদেশে প্রথম করোনা ভ্যাকসিনের আরিষ্কারক গাজীপুরের কৃতি সন্তান। করোনার প্রভাবে শহর ছেড়ে গ্রামে ফিরছে মানুষ; ঝুঁকছে কৃষি চাষে, চাঙ্গা হচ্ছে গাজীপুরের গ্রামীণ অর্থনীতি। শ্রীপুরে ২০ বছরেও রাস্তাটির কাজ হয়নি অসংখ্য অসহায় হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ‘স্বপ্নদ্রষ্টা’ সংগঠনের খাদ্যদ্রব্য উপহার বিতরণ। ঈদ কার্ড শ্রীপুরে রুট স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ঈদ সামগ্রী বিতরণ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহারে করণীয় ও বর্জনীয়। এমসি বাজারে ইজারাদার এর বিরুদ্ধে অভিযোগ। পটকা গ্রামে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আক্রমণ এর অভিযোগ। শ্রীপুর বরমী শীতলক্ষ্যা নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে বালুর ড্রেজারের নিচে পরে হাফেজ ছেলে নিহত।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহারে করণীয় ও বর্জনীয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহারে করণীয় ও বর্জনীয়।

বিশেষ প্রতিবেদনঃ  তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক স্যোশাল মিডিয়ার গুরুত্ব ও প্রভাব অনস্বীকার্য।

ফেসবুক হলো একটি স্যােশাল মিডিয়া।
পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ৪২ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। এর মধ্যে ২৯ শতাংশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যুক্ত আছেন। বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ৮০ শতাংশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেন।

বেশ কিছু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব, স্কাইপ, ইমো, ভাইবার, লিংক্ড্ইন, ইনস্টাগ্রাম, ও হোয়াট্স্অ্যাপ) রয়েছে।
তাদের মধ্যে ফেসবুক হলো সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সহজতম মাধ্যম।সকল শ্রেনী পেশা ও বয়সের মানুষ বিনা খরচে
খুব সহজেই ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলতে পারছে।
যার ফলে অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারীরা পোস্ট ভাল করে না পড়েই মন্তব্য করে বসেন যা প্রাসঙ্গিক নয়। অনেকে পোস্টে বিরূপ মন্তব্য করে বসে যে ভাই চিকন পিনের চার্জার হবে, কোম্পানির প্রচারের জন্য মাএ ১০০ টাকা এইরকম ব্লা ব্লা যা মোটেও কাম্য নয়। রিসেন্টলি ফেসবুকে নাম ম্যানশন করে শিক্ষক,সিনিয়র, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে কমেন্ট করার একটা ট্রেন্ট দেখা যাচ্ছে যেখানে কাকে কি সম্বোধন করতে হবে সেটা না করেই কমেন্ট করে দিচ্ছে যা নাম ধরে ডাকার মতই শামিল হয়ে যাচ্ছে যা অত্যন্ত বাজে লাগে।
আবার এমনও দেখা যায় অনেকে কোন একটা পুরানো পোস্ট দেখে তার দিন তারিখ খেয়াল না করেই বলে বসেন করোনার সময়ও ঘুরাঘুরি বাদ দিলেন না, বিন্দাস সময় কাটাছেন যা,আপনার মতো সচেতন মানুষের কাছে কাম্য নয় অথচ তিনি বাড়ীতে নিরাপদে অবস্থান করছেন।
পোস্টটি হয়ত দুই/তিন বছর আগের যা কি না মুশকিল হয়ে যায় ! দুই বছর বা পাঁচ বছর আগের পোস্ট দেখে যদি কেউ মনে করে ঘটনাটি আজকেই ঘটেছে — তা’হলে তাকে কি আর বন্ধু তালিকায় রাখা যায় ?

ফেসবুক পোস্টে কমেন্ট করার সময় ভাল করে চিন্তা করুন, অপ্রাসংঙ্গিক মন্তব্য করবেন না। যেখানে “অভিনন্দন “ জানানোর প্রয়োজন নেই সেখানে তা কেন বলবেন ?
অনেকে মন্তব্য করার পরিবর্তে ফানি স্টিকার দিয়ে থাকেন যা পোস্টের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং যাকে দিলেন তিনি তাতে বিব্রতবোধ করতে পারেন ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহারে এইসব বিষয়গুলো বর্জন করা অাবশ্যক।

কারো পোস্ট/ লেখা সম্পূর্ণ না পড়ে সেখানে লাইক, কমেন্ট, বা শেয়ার করা উচিত নয় । কারণ, ঐ লেখার শেষাংশে এমন কিছু কথা থাকতে পারে যা লাইক কমেন্ট বা শেয়ার করে আপনি বিপদেও পড়তে পারেন ।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও এর সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মন্ত্রি পরিষদ বিভাগ কর্তৃক “সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা ২০১৯” পরিমার্জিত সংস্করণ প্রণয়ন করা হয়। এতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে যেসব বিষয়সমূহ অনুসরণীয়/করণীয় বলে উল্লেখ রয়েছে, সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে সরকার ও রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। জাতীয় ঐক্য ও চেতনার পরিপন্থী কোনো রকম তথ্য -উপাও প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে এমন বা ধর্ম নিরপেক্ষতার নীতি পরিপন্থী কোনো তথ্য উপাও প্রকাশ করা যাবে না। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো সার্ভিস /পেশাকে হেয় প্রতিপন্ন করে এমন কোনো পোস্ট করা হতে বিরত থাকতে হবে। লিঙ্গ বৈষম্য বা এ সংক্রান্ত বিতর্কমূলক তথ্য উপাও প্রকাশ করা যাবে না। জনমনে অসন্তোষ বা অপ্রীতিকর মনোভাব সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো পোস্ট লাইক, কমেন্ট, শেয়ার করা যাবে না। ভিওিহীন অসত্য ও অশ্লীল তথ্য প্রচার হতে বিরত থাকতে হবে। অন্য কোনো রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য সম্বলিত কোনো পোস্ট, ছবি,অডিও ভিডিও আপলোড, লাইক, কমেন্ট করা হতে বিরত থাকতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবস্হাপনার ক্ষেত্রে ‘কন্টেন্ট ও ফ্রেন্ড ‘ সিলেকশনে সকলকে সতর্কতা অবলম্বন ও প্রয়োজনীয় ট্যাগ,রেফারেন্স বা শেয়ার করা পরিহার করতে হবে।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার বা নিজ একাউন্টের ক্ষতিকারক কন্টেন্টের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হবেন এবং সে জন্য প্রচলিত আইন ও বিধি- বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে অত্যন্ত সর্তকতা অবলম্বন করা অত্যাবশ্যক।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে অসামাজিক/অসতর্ক না হয়ে সচেতন হয়ে নিজের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা ই হোক বদ্ধ অঙ্গীকার।

লেখক
আশরাফুল আলম
সাবেক শিক্ষার্থী
একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




raytahost-demo
© All rights reserved © 2020
Design by Raytahost