বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ০৬:২৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
বাংলাদেশে প্রথম করোনা ভ্যাকসিনের আরিষ্কারক গাজীপুরের কৃতি সন্তান। করোনার প্রভাবে শহর ছেড়ে গ্রামে ফিরছে মানুষ; ঝুঁকছে কৃষি চাষে, চাঙ্গা হচ্ছে গাজীপুরের গ্রামীণ অর্থনীতি। শ্রীপুরে ২০ বছরেও রাস্তাটির কাজ হয়নি অসংখ্য অসহায় হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ‘স্বপ্নদ্রষ্টা’ সংগঠনের খাদ্যদ্রব্য উপহার বিতরণ। ঈদ কার্ড শ্রীপুরে রুট স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ঈদ সামগ্রী বিতরণ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহারে করণীয় ও বর্জনীয়। এমসি বাজারে ইজারাদার এর বিরুদ্ধে অভিযোগ। পটকা গ্রামে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আক্রমণ এর অভিযোগ। শ্রীপুর বরমী শীতলক্ষ্যা নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে বালুর ড্রেজারের নিচে পরে হাফেজ ছেলে নিহত।

ঈদ কার্ড

রিপা আক্তার

গ্রামের নাম চৌয়ানীয়া ।ষড়ঋতুর এই দেশে অপরুপ সৌন্দর্যের এক লীলা ভূমি যেন এই গ্রামটি ।চারদিকে সবুজ ফসলের মাঠ, গাছপালা, বাশবাগান, কাচাপাকা রাস্তা ।একটি কলেজও আছে এই গ্রামে যার নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা জহিরুল ইসলাম কলেজ ।ডিগ্রী পর্যন্ত পড়ানো হয় এই কলেজে ।গ্রামের পাশ দিয়েই বয়ে গেছে ব্রহ্মপুত্র নদ ।একেক একেক ঋতুতে একেক রকমের ফসল গ্রামের সৌন্দর্যকে আরও পরিস্ফুটিত করে তুলে । এই গ্রামের অধিকাংশ মানুষই কৃ্ষক ।যুবক থেকে বৃদ্ধ সবাই কৃ্ষি কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকে সারা বছর ।সব ধরনের ফসলই জন্মে এখানে ।চৈত্র মাসে যখন চারদিক দাবদাহে পুড়ে ঠিক তখনই কৃ্ষকের ঘরে উঠে আসে সোনালী ধান ।সবাই তখন মহাসমারোহে ধান মাড়াই করে, চার দিক যেন উৎসবে পরিনত হয় ।শীতকাল যেন এই গ্রামের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দেয় ।বাহারি রকমের সবজি জন্মে এখানে টমেটো, আলু, কাচামরিচ, ফুলকপি, বাধাকপি, বরবটি কিছুই যেন বাদ যায় না ।শীতকালে যতদূর চোখ যায় শুধু সবজি বাগান চোখে পড়ে… বর্ষাকাল যেন আরেক সৌন্দর্য নিয়ে আসে এই অপরুপ সৌন্দর্যের লীলা ভূমিতে ।নদী তার ভরা যৌবন ফিরে পায় । জেলেরা নৌকা ভাসায় নদীতে মাছ ধরতে, জেলেদের জালে ধরা পরে ছোট বড় অসংখ্য মাছ । গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৯৭০ সালে । গামের প্রায় সিংহভাগ কৃষক পরিবারের সন্তান এই স্কুলেই পড়ে। বেশ কয়েক বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা জহিরুল ইসলাম কলেজটি । যে মহান ব্যক্তির নামে কলেজটি পতিষ্ঠিত তিনি এখনো বেচে আছে। । তিনি নিজে পড়াশোনা কম জানলেও কলেজের পড়াশোনার নিয়মিত খোজখবর রাখেন ।এই কলেজ থেকে এইচ,এস,সি পাশ করে দেশের নাম করা একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে তরিক ।স্বচ্ছল কৃ্ষক পরিবারের সন্তান তরিক ।যখন গ্রামে থাকতো তখন পড়াশুনার ফাকে ফাকে বাবার কৃষি কাজে সহযোগিতা করতো।পড়াশুনা করত বলে বাবাও বেশি এক্তা কাজ দিত না।তরিক গ্রামের প্রিয় মুখ, খেলাধূলায় ভাল, ভাল ছাত্র। তরিকের আরও একটি গুণ হলো মানুষের বিপদে সব সময় এগিয়ে যায় ।সবাই বলে এই ছেলে একদিন বড় হয়ে গ্রামের মুখ উজ্জ্বল করবে । তরিকের ভাল লাগে নজরুল সংগীত শুনতে ও নজরুলের কবিতা পড়তে । নজরুলের কবিতা ও গান মনে এক ধরনের শিহরণ জাগায়, নতুন কিছু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করতে শেখায় ,অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শেখায় ।বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকে তরিক। হলে উঠেই পরিচয় হয় সহপাঠী লিটনের সাথে । ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব ।লিটন অনেক লম্বা, দেখতে অনেক সুন্দর, মিষ্টি ভাষায় কথা বলে।দুজনের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন ভালই চলছে । ফাস্ট ইয়ারে যেমনটা হয় আর কি ,ঘরে বেড়ানো। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়া , ফুচকা খাওয়া আবার ক্লাশ পরীক্ষা,এসাইনমেন্ট নিয়ে ব্যস্ত থাকা । লিটনের খুবই সৌখিন মানুষ যা ওর ব্যবহৃত জিনিস পত্র গুলো দেখলেই বুঝা যায় । একদিন দুজনেই ক্লাশ করছিল এমন সময় তরিকের চোখ গিয়ে পড়লো পাশের ব্র্যাঞ্চে বসা একটি মেয়ের উপর ।মেয়েটি দেখতে খুবই সুন্দরী ও সুশ্রী ।লিটনকে ফিসফিস করে বলল লিটন এই লিটন দ্যাখ মেয়েটি কত্ত সুন্দরী ! লিটন বলল শালা ক্লাশ কর স্যার দেখে ফেলবে ! ক্লাশ শেষ হলে তরিক লিটনকে বলল চল মেয়েটির সাথে কথা বলি ।লিটনও আপত্তি করলো না কারণ ওরা একই ক্লাশে পড়ে ।
তরিক মেয়েটিকে ডাকলো এই শুনো?

 

হ্যা বলো?
আমি তরিক আর ও আমার বন্ধু লিটন ।
আমরা কি তোমার নামটা জানতে পারি ?
অবশ্যই জানতে পারো আমরা তো একই ক্লাশে পড়ি ।তারপর মেয়েটি বললো ও রাইমা ময়মনসিংহ থেকে এসেছে ।তরিক বলল ও তাই নাকি আমিওতো ময়মনসিংহ থেকে এসেছি ! বাহ ভালই হলো নিজ এলাকার একজন বন্ধু পাওয়া গেল ।এদিকে লিটন ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ নিয়ে মনে মনে বলছে শালা আমাকে দাড় করিয়ে রেখে টাংকি মারা হচ্ছে !তার কিছুক্ষণ পর তরিক রাইমার কাছ থেকে বিদায় নিল আগামীকাল ক্লাশে দেখা হবে বলে ।শালা তুই তো দেখি মেয়েটিকে একদিনেই পটিয়ে ফেললি !শালা চল আজ রুমে আজ তোর একদিন কি আমার একদিন ! হাটতে হাটতে দুইজন রুমে চলে গেল ।রাতের পড়া শেষে তরিক গিটার নিয়ে বসল আর লিটন ফেইসবুক ।ফেইসবুকের এক সুন্দরী মেয়ের প্রোফাইল পিকচার দেখেলিটন একদম পাগল হয়ে গেল ।ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠালো মেয়েটিকে । সাথে সাথেই মেয়েটি লিটনকে বন্ধু তালিকায় নিয়ে নিল ।লিটনের উত্তেজনা দেখে কে ! বলল মামা পাইছি তোর রাইমা তাইমা সব ফেল! এদিকে তরিক গিটারে সুর তুলছে
তোরে পুতুলের মত করে সাজিয়ে……
গান থামিয়ে তরিক বলল আরে বোকা এত ফাল পারিস না মেয়েরা এখন ফেইসবুকে নিজের ছবি দেয় না ।খোজ নিয়ে দ্যাখ কোন মডেল হবে তার ছবি দিয়ে দেখেছে ।
লিটন তো আরও অবাক যখন দেখলো মেয়েটি ওকে hi বলছে! দারুন রোমান্টিক কথা বার্তা চলছে ওদের মাঝে ।
পরদিন সকাল ৯টায় ক্লাস, তরিক মোবাইলে এলার্ম দিয়ে রাখছে, এলার্ম বাজছে কিন্তু কারো উঠার নাম নেই ।ক্লাসের ৫মিনিট আগে ঘুম ভাংলো তরিকের, লিতন এখনো ঘুমেই! তরিক ডাকছে লিটন এই লিটন ওঠ ৯টা বাজে ক্লাসের সময় হয়েগেছে। লিটন এক লাফ দিয়ে উঠলো বলিস কি! রাজু স্যারের ক্লাস ! স্যার তো এক মিনিট পরে গেলেও এলাও করে না ।দুজন ঝড়ের গতিতে ফ্রেশ হয়ে শার্টের বোতাম লাগাতে লাগাতে দৌড় ! হাপাতে হাপাতে ক্লাসের দরজার সামনে গিয়ে দেখলো স্যার ক্লাসে! দুজনেই একসাথে বললো মে আই কামিং স্যার? স্যার চোখ বড় বড় করে বলল কয়টা বাজে? দুজনেই মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলো কিছুক্ষন পর স্যার বলল আর যেন লেইট না হয় ।ক্লাসে ঢুকেই তরিকের চোখ পড়লো রাইমার। উপর রাইমা মুচকি হাসছে ওদের কান্ড দেখে!
ক্লাস শেষ হলে রাইমা বলল কি ব্যাপার এত লেইট করে আসো কেন?
কি করব এত সকালে কি আর ঘুম থেকে উঠা যায় ।
কেন সারা রাত কি মোবাইলে কথা বলো নাকি!
আরে নাহ! কার সাথে কথা বলব আমার কি কেউ আছে নাকি!লিটন বলল চল সবাই মিলে কোথাও বসে আড্ডা দিই ।ওরা খুরাকি কেন্টিনে গিয়ে বসলো। খুরাকি কেন্টিনটা অনেক ছিমছাম গোছানো। খুরাকির ছাঁদ হচ্ছে খরের চালা আর বেড়া গুলো বাশের তৈরি, চমৎকার লাইটিং ,সব মিলিয়ে যেন এই শহুরে জীবনে

একটু গ্রামের ছোয়া।এখানে বসে আড্ডা দিতে ভালই লাগে, চারদিকে প্রাকৃ্তিক বাতাসে যেন মনটা সহজেই ভরে যায়।কেউ কেউ দল বেধে গিটার নিয়ে বসে গান ধরছে আবার কেউ কেউ চায়ের কাপে ঝড় তুলছে।গভীর রাত পর্যন্ত এখানে ছেলে মেয়েদের আড্ডা চলেই।এখানে বসেই লিটন বলল আজ বিল দিবে তরিক!তরিক বলল না আজ বিল দিবে লিটন ।দুজনের এমন বিল নিয়ে কাড়াকাড়িতে রাইমা বলল তোরা থাম আজ বিল আমি দিব।তরিক এমন সময় নিচু গলায় বলল না তুমি দিবে কেন আজ না হয় আমিই…তরিকের কথা শেষ না হতেই জেনি বলল থাক থাক আর দরদ দেখতে হবে না আজ বিল রাইমাই দিক। এখানে দেশি আমের জুস পাওয়া যায় তাই ওরা জুস অর্ডার করলো । খাতে খেতে লিটন জেনিকে বলল এই জেনি তুই এত মনোযোগ দিয়ে ক্লাসে কি বুঝিস? স্যারের পেচাল কি তোর এতই ভাল লাগে ? জেনি বলল স্যার পেচাল পারে নাহ ? স্যার যদি শুনে এই কথা তাহলে তোর বারটা বাজিয়ে ছাড়বে ।রাইমা জেনিকে বলল তোর নোট গুলো আমাকে দিবি?জেনি বলল আচ্ছা ফটোকপি করে নিস।তরিক বলল জেনি তুই এখন থেকে সব ক্লাস মনোযোগ দিয়ে করবি আর নোট করবি সেই নোট আমরা পরীক্ষার আগে তোর কাছ থেকে নিয়ে পড়ে পরীক্ষা দিব, বুঝলি ? জেনি ব্যাংগ করে বলল কত্ত মজা!আমি বসে বসে নোট করব আর ওনার গায়ে হাওয় বাতাস লাগিয়ে ঘুরবে, তা হবে না, একদম হবে না। লিটন এবং রাইমা এক সাথে বলে উঠল তুই না আমাদের দুস্ত!তুই কি পারবি আমাদের রেখে একা ভাল রেজাল্ট করতে ?
জেনি বলল ইস ইস থাক থাক আর তেল দিতে হবে না পরীক্ষার আগে নিয়ে নিস। সবাই এক সাথে বলে উঠলো ইয়া হু!

রাইমা রাতে শুয়ে শুয়ে ভাবছে তরিক ছেলেটা কিন্তু কথাবার্তায় ভাল, অনেক হেল্পফুল।রাইমা সেই কলেজ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হয়া পর্যন্ত অনেকেরই প্রেম নিবেদন পেয়েছে কিন্তু কাউকে এসব বিষয়ে কোন পাত্তাই দেয়নি আজ হঠাৎ তরিককে নিয়ে ভাবছে ।ভাবতে ভাবতেই মনে হলো একটা কল দেই।মোবাইলটা হাতে নিয়ে কল দিতেই অপর প্রান্ত থেকে ভেসে আসলো হ্যা রাইমা বলো। রাইমাতো অবাক! যেন আকাশ থেকে পড়েছে। রাইমা থতমত খেয়ে বলল তরিক আমার নাম্বার তোমার কাছে আছে ? তরিক বলল সে অনেক আগে থেকেই।কিন্তু আমি তোমাকে নাম্বার দিয়েছি বলে তো মনে হয় না ।আরে বোকা মেয়ে আমি ক্লাসের সি আর আর আমার কাছে সবার নাম্বার থাকবে না? ঐ যে স্যার সেদিন একটা শীট দিয়ে বলল এখানে সবার নাম আর নাম্বার লিখে দাও ।ওই লিস্টটা সি আর কে দিবে বলেই তো করেছে ।রাইমা এবার হাফ ছেড়ে বাচে ও তাই বলো । তরিক বলল এবার বলো রাইমা কেন কল দিয়েছো? রাইমা আমতা আমতা করে বলল না…মানে…এমনি বলে বলল আচ্ছা রাখি বলেই রেখে দিল।ফোনটা রেখে মনে মনে তরিকের ফোনের অপেক্ষা করতে লাগলো।ফোন রেখে তরিক লিটনকে বলল কিরে লিটন কি করছিস? লিটন সেই দিনের মেয়েটির সাথেই চ্যাট করছিলো। চ্যাটের কথা গুলো ছিল এমন…
জান কি করছো ?
জান তোমাকে খুব মিস করছি
চলে আসো না আমার কাছে ।এই টাইপের কথা বার্তা। মেয়েটি লিটনকে তার একটি ছবি দিল, লিটন তো মহা খুশি ! তরিককে বলল এই দ্যাখ দুস্ত মেয়েটি কত্ত স্মার্ট,কি সুন্দর বডি ফিটনেস টাইট জিন্স আর চাপা

টি-শার্টে দারুন মানিয়েছে না দুস্ত? হুম তোর তো শুধু বডি ফিটিং জিন্স আর টি-শার্টই ভালোলাগে বলে মোবাইলটা নিয়ে রুমের বাইরে চলে গেল।জোৎস্না রাত হলের সামনে বাগানে হাসনা-হেনা ফুলের গন্ধে চারদিক সুবাসিত। তরিকের কাছে আজকে চাঁদটাকে আরও সুন্দর লাগছে। এমন সময় তরিক রাইমার কাছে কল দেয় অপর প্রান্ত থেকে সাথে সাথেই আওয়াজ আসে এতো দেরি করলে কেন ? তরিক বলে তুমি কি আমার কলের অপেক্ষা করছিলে? রাইমা বলল না মানে এমনি বললাম। তারপর দুজনে অনেক কথাই হলো। রুমে এসে দেখলো লিটন কুল বালিশ নিয়ে গড়াগড়ি করছে ! লাইটটা জ্বালাতেই লিটন লাফ দিয়ে উঠলো! বলল ও তুই ।করলি তো ডিস্টার্ব একটা সুন্দর রোমান্সের মাঝে ছিলাম। তরিক রসিকতা করে বলল সোনার চাঁন ঘুমাও সকালে ক্লাস আছে।
পরদিন যথারীতি সবাই ক্লাস করে বিকেল বেলা বেড়াতে গেল দূরে কোথাও।বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হতেই রাইমা আর জেনি বলল চল চল সন্ধ্যা হয়েগেছে ফিরতে হবে।আসার সময় জেনি আর লিটন এক রিক্সায় আর তরিক আর রাইমা এক রিক্সায় ।তরিক রাইমাকে বলল আচ্ছা রাইমা তমার কি মনে হয় সমবয়সী দুজন মানুষকি প্রেম করতে পারে ?হ্যা, পারবে না কেন পারবে তো।কেন তরিক তোমার কি সম্বয়সী কাউকে পছন্দ আছে নাকি ? তরিক বলল না এমনি বললাম।এতো মধ্যে রিক্সা চলে এসেছে ওরা দুজঙ্কে নামিয়ে দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে হলের দিকে আসতে শুরু করলো কিন্তু লিটন বলল দুস্ত আমিতো ভূলেই গিয়েছিলাম আগামী সোমবার ফেইসবুকের ঐ মেয়েটি সাথে দেখা করতে যাব। দুস্ত একটা গিফটতো লাগবে প্লিজ দুস্ত চল একটু গিফট শপে যাই। না না এখন রাত হয়ে গেছে এখন যাওয়া যাবে না,লিটন বলল প্লিজ দুস্ত প্লিজ চলনা একটু।তরিক আর আপত্তি না করে গেল।লিটন অনেকক্ষণ ঘুরে ঘুরে সুন্দর একটা ডল বের

করে আনলো।তরিকও ভাবছে কিছু নেয়া যায় কি না ।হঠাৎ মনে হলো সামনে তো ঈদ রাইমার জন্য একটা ঈদ কার্ড নিয়ে যাই।আর এই ঈদ কার্ডটির মাধ্যমেই রাইমাকে আমার ভালবাসার কথা জানিয়ে দিব। তরিক অনেক বেছে বেছে সুন্দর একটা ঈদ কার্ড নিয়ে আসলো মোটামুটি ভাল দামের ।হলে এসে দুজনেই মনে মনে খুব উত্তেজনা অনুভব করলো। তরিক ভাবছে কি ভাবে লেখা যায় ভালবাসার কথা। আর লিটন তার ফেইসবুক গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে পার্কের ঝোপ ঝাড়ের কথা ভাবছে যেখানে সহজেই মানুষের দৃষ্টি যায় না !
তরিক ভেবে পাচ্ছেনা কিভাবে ভালবাসার কথা বলা যায় অবশেষে ছোট্ট করে লিখলো…
ভালবেসে আমার হাতটা ধরতে তোমার আপ্পতি আছে?
লিখে সুন্দর করে ঈদ কার্ডটি একটি খামের ভিতর ভরে রাখলো। পর দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে রাইমা ওর ই-মেইল দেখে চমকে উঠল! কিছুদিন আগে যে অস্টেলিয়ান একটা ভার্সিটিতে স্কলারশিপের জন্য এপ্পলাই করেছিল সেটা পেয়েছে !মেইলে লেখা ছিল আগামী দশ দিনের মাঝে ওকে চলে যেতে হবে এবং যে দিন সে মেইলটা দেখলো সেদিন ছিল নবম তম দিন। রাইমা আর দেরি না করে ঔই দিন সকালেই নাস্তা না করেই ঢাকায় ওদের বাসায় চলে গেল, ভেবেছিল যাওয়র সময় তরিককে জানিয়ে যাবে সেটা আর হয়ে উঠেনি কারণ মোবাইলটা হলে রেখে এসেছে। সকালে উঠে ফ্রেশ হয়ে তরিক অনেক স্মার্টলি ক্যাম্পাসে গিয়ে রাইমার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো কিন্তু রাইমা আজ আসছে না । অপেক্ষা করতে করতে ক্লাসের সময় হয়ে গেল তবুও আসছে না।ক্লাস শেষ করে তরিক কল দিল কিন্তু সুইচ অফ। তরিক মনে মনে অস্থির হয়ে গেল।মনটা খুবই খারাপ হলো তরিকের।কাল থেকে ঈদের ছুটি শুরু তাই একে একে সবাই ঈদের বিদায় নিয়ে যাচ্ছে। মন খারাপ নিয়ে হলে চলে আসলো তরিক। খামটা যত্ন করে বাক্সে ভরে রাখলো। রাইমা ঢাকায় এসে তার পরিবারকে বিষয়টা বললে তার পরিবারের কেউ রাজি হলো না। তার বাবা মা বলল তুমি আমাদের একমাত্র সন্তান তুমি চলে গেলে আমরা কষ্ট পাব,আমরা বড় একা হয়ে যাব। অবশেষে অনেক বুঝানোর পর তার বাবা মা রাজি হলেন। আগামীকাল ভোর ৬টায় ফ্লাইট।রাইমা ও তার মা রাতেই সবকিছু গুছিয়ে রাখলেন।রাতে ঘমাতে যাওয়ার আগে বার বার তরিকের কথা মনে পরে রাইমার, রিকশা করে ঘুরে বেড়ানোর কথা এক সাথে ফুচকা খাওয়ারকথা, মনে পরে তরিকের সেই সমবয়সী প্রেমের কথা যা তরিক রাইমাকে উদ্দেশ্য করেই বলেছিল। এসব চিন্তা করতে করতে রাইমা ঘুমিয়ে পরে।

সেদিন রাতে তরিকেরও ঘুম হয়নি সকালের ট্রেনেই বাড়ি চলে যায় সে।
রাইমাও পরদিন ভোর ৬টার ফ্লাইটে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ে।
ঈদের ছুটি শেষে তরিক মা বাবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ভার্সিটিতে চলে আসলো। লিটনও আসলো।লিটন বলল দুস্ত ঘটনাতো ঘটে গেছে একটা! তরিক বলল আগে তোর প্রেমে কাহিনী বল ।
আরে দুস্ত কি বলব সেদিন যে গেলাম না দেখা করতে সে নিয়ে এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার! তরিক অধিক আগ্রহের সাথে বলল কি অভিজ্ঞতা শুনি!
লিটন বলা শুরু করল, দুস্ত আমিতো গেলাম মেয়েটির সাথে দেখা করতে খুব ভাব নিয়ে ! দুস্তরে বিশ্বাস করবি না আমিতো দেখে পুরাই অবাক! এই মেয়ের সাথে আমি কথা বলি ? তরিক অনেক আগ্রহ নিয়ে বলল তারপর… দুস্ত তখন আমাদের সাথে মোবাইলে কথা হচ্ছিল। দেখি একটা কালো মোটা মহিলা কথা বলতে বলতে আমার দিকে এগিয়ে আসছে! যখন আমার সামনে আসলো আমার তো প্রান যায় যায় অবস্থা ! কি করব বুঝতে না পেরেই দিলাম এক দৌড়! কিছুক্ষন দৌড়ানোর পর হাঁপিয়ে হাঁপিয়ে পিছনে ফিরে দেখি মহিলাও আমার দিকে দৌড়ে আসছে! আর বলছে জান দাঁড়াও, দাঁড়াও জান চলে যাচ্ছ কেন ? আমি কোন রকমে দৌড়ে একটা সিএনজি করে হলে চলে আস্লাম।তরিক শুনছিল আর হাসিতে লুটুপুটি খাচ্ছিলো ।দুস্ত আমি পরে জানতে পারছি যে মেয়েটির ছবি আমাকে ও দিত সেটা আর্ট ফিল্মের নায়িকা !

আজ অনেক বছর হয়ে গেল রাইমার সাথে তরিকের যোগাযোগ নেই। এতো মধ্যে তরিক বিবিএ, এমবিএ কমপ্লিট করে পিএইচডি ও করেছে অস্ট্রেলিয়ার একটা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। পেশা হিসেবে বেছেও নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা। বিদেশের মাটিতে আজ প্রায়ই রাইমার কথা মনে পরে রাইমার কথা, রাইমা কোথায় আছে, কি করছে? ও কি বিয়ে করেছে কিনা ? মনে পরে দশ বছর আগের সেই ঈদ কার্ডটির কথা যা আজও সে যত্ন করে রেখেছে। এসব চিন্তা করতে করতেই এখন রাত ভোর হয়ে যায়। লিটনও সিএ কমপ্লিট করে এখন পেশাদার অডিটর।কত কিছুরই পরিবর্তন হয়েছে তরিক চশমা নিয়েছে, চেহেরাতেও কেমন একটা বয়সের ছাপ পরেছে। এখন আগের চেয়ে অনেক ফরমাল, ছাত্রদের খুব হেল্প করে বলে ছাত্ররাও খুব পছন্দ করে। হঠাৎ একদিন ক্লাস শেষে অফিসে বসে তরিক একটি বিজনেস জার্নাল পরছিল। এমন সময় একজন সুন্দরী বাঙ্গালি মহিলা পরনে ছিল জামদানি শাড়ি, চোখে ছিল চশমা দরজার সামনে এসে বলল মে আই কামিং? জার্নালে চোখ বুলাতে বুলাতেই বলল ইয়েস কামিং। মেয়েটি ভেতরে প্রবেশ করল। চোখ তুলে তাকাতেই দেখে রাইমা! তরিক নিজের চোখকে যেন বিশ্বাস করতে পারছিল না!সে চেয়ার থেকে উঠে চশমা হাতে নিয়ে অবাক হয়ে কিছুক্ষন তাকিয়ে

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




raytahost-demo
© All rights reserved © 2020
Design by Raytahost